কলকাতা, ৫ আগস্ট ২০২৫: টলিউডের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলী আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে ফিরছেন, এবং এই খবরে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। দশ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁদের অভিনীত ‘ধূমকেতু’ ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে আগামী ১৬ মে, ২০২৫। কৌশিক গাঙ্গুলীর পরিচালনায় এই ছবিটি দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজে আটকে ছিল, কিন্তু অবশেষে ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় উপহার হতে চলেছে। এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে টলিউডে উৎসাহের জোয়ার, এবং ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই জুটির পর্দার রসায়ন দেখার জন্য।
‘ধূমকেতু’র কেন এত দেরি?
‘ধূমকেতু’ ছবিটি দেবের প্রযোজনা সংস্থা ‘দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স’ এর প্রথম প্রযোজনা। ২০১৫ সালে এই ছবির শুটিং শুরু হয়, যেখানে দেব ও শুভশ্রী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু সহ-প্রযোজক রানা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে ছবিটির মুক্তি আটকে যায়। দশ বছর ধরে এই ছবি ক্যানে বন্দি ছিল, যদিও ভক্তদের মধ্যে এটি নিয়ে কৌতূহল কখনোই কমেনি। সম্প্রতি, পোস্ট-প্রোডাকশনের বাকি কাজ যেমন দেবের ডাবিং, গ্রাফিক্স এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সম্পন্ন করার জন্য প্রযোজনা টিম পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। কৌশিক গাঙ্গুলীর মতো একজন প্রতিভাবান পরিচালকের হাতে নির্মিত এই ছবি ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেব-শুভশ্রীর যৌথ যাত্রা: একটি স্মরণীয় অধ্যায়
দেব ও শুভশ্রী টলিউডের ইতিহাসে একটি সুপারহিট জুটি। ২০০৯ সালে ‘চ্যালেঞ্জ’ ছবির মাধ্যমে তাঁদের পর্দার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘পরাণ যায় জলিয়া রে’, ‘খোকাবাবু’, ‘রোমিও’ এবং ‘খোকা ৪২০’-এর মতো ছবিতে তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মন জয় করে। এই ছবিগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এবং তাঁদের জুটি টলিউডে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। তাঁদের পর্দার রোম্যান্স এবং অফ-স্ক্রিন বন্ধুত্ব ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। যদিও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছিল, তাঁরা সবসময়ই জোর দিয়ে বলেছেন যে তাঁরা ‘ভালো বন্ধু’।
ব্যক্তিগত জীবনে শুভশ্রী বর্তমানে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহিত এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, দেব অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন একসময় ভক্তদের মন ভাঙলেও, পর্দায় তাঁদের জুটি এখনও অতুলনীয়। সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেব শুভশ্রীকে ‘ইন্দুবালা ভাতার হোটেল’ সিরিজের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার প্রদান করেন, এবং এই মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এই ঘটনা ভক্তদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে যে তাঁরা আবারও একসঙ্গে কাজ করবেন।
‘ধূমকেতু’র প্রতিযোগিতা: রাখি গুলজারের ‘আমার বস’ এর সঙ্গে মুখোমুখি
‘ধূমকেতু’র মুক্তির দিনে, অর্থাৎ ১৬ মে, ২০২৫, আরেকটি বড় ছবি ‘আমার বস’ মুক্তি পাচ্ছে, যেখানে অভিনয় করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রাখি গুলজার। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবিটি ইতিমধ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া’ (আইএফএফআই)-তে প্রশংসিত হয়েছে। দুটি বড় ছবির এই সংঘর্ষ বাংলা সিনেমার জন্য একটি বড় দিন হতে চলেছে। তবে, দেব-শুভশ্রীর ভক্তরা আশাবাদী যে তাঁদের প্রিয় জুটির রসায়ন ‘ধূমকেতু’কে বক্স অফিসে এগিয়ে রাখবে।

ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা ‘ধূমকেতু’র মুক্তির খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অনেকেই লিখেছেন, “দেব-শুভশ্রীর জুটি টলিউডের সোনালি অধ্যায়। তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছি।” কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন যে ‘ধূমকেতু’র সাফল্যের পর তাঁরা নতুন কোনো প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করবেন। এই ছবির মুক্তি নিয়ে দেব বলেছেন, “এটি আমার প্রথম প্রযোজনা, এবং শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই বিশেষ। আমরা চাই ভক্তরা এই ছবি উপভোগ করুন।” শুভশ্রীও বলেছেন, “ধূমকেতু আমাদের জন্য একটি আবেগের প্রজেক্ট। ভক্তদের ভালোবাসা আমাদের শক্তি।”
ক্রিকেট কিংবদন্তিদের মতামত: টলিউডের প্রতি সমর্থন
যদিও এই খবর ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবে টলিউডের এই ঘটনা নিয়ে কিছু ক্রিকেট কিংবদন্তি তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। সৌরভ গাঙ্গুলী, যিনি বাংলা সিনেমার একজন ভক্ত, বলেছেন, “দেব ও শুভশ্রী বাংলা সিনেমার গর্ব। তাঁদের একসঙ্গে দেখা আমাদের জন্য উৎসবের মতো। ‘ধূমকেতু’র জন্য শুভকামনা।” ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীও বলেছেন, “বাংলা সিনেমা আমাদের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। দেব-শুভশ্রীর এই প্রত্যাবর্তন ভক্তদের জন্য বড় উপহার।” এই সমর্থন বাংলা সিনেমার প্রতি ক্রিকেটারদের ভালোবাসার প্রমাণ।
দেব ও শুভশ্রীর ‘ধূমকেতু’র মুক্তি বাংলা সিনেমার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁদের পর্দার রসায়ন, কৌশিক গাঙ্গুলীর পরিচালনা এবং ভক্তদের উৎসাহ এই ছবিকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন আলাদা পথে এগিয়েছে, তবু পর্দায় তাঁদের জুটি এখনও ভক্তদের হৃদয়ে রাজত্ব করে। ‘ধূমকেতু’র মুক্তি কেবল একটি ছবির মুক্তি নয়, বরং টলিউডের সোনালি যুগের একটি প্রত্যাবর্তন।

